আবদুল গনি রোড ছাড়ছে সচিবালয়: শেরেবাংলা নগরে হচ্ছে নতুন ও আধুনিক প্রশাসনিক কেন্দ্র
স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় :
২৫-১০-২০২৬ ০২:২৫:৩৯ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
২৫-১০-২০২৬ ০২:২৫:৩৯ অপরাহ্ন
.
অবশেষে ঐতিহাসিক আবদুল গনি রোড থেকে সচিবালয় স্থানান্তরের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। চলতি বছরের বিজয় দিবসে (১৬ ডিসেম্বর) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের আগারগাঁওয়ে নতুন এই সচিবালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
গত রবিবার বিকেলে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত হয়। বৈঠকে উপস্থিত সূত্র জানায়, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগেই সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে এক ক্যাম্পাসের আওতায় নিয়ে আসার পরিকল্পনা নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী, যাতে দ্রুত সরকারি সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হয়। বর্তমান সচিবালয়ে ১৮ লাখ ৭৬ হাজার বর্গফুট জায়গা থাকলেও সেখানে ১৬টি মন্ত্রণালয়ের জায়গা সংকুলান হয় না। এছাড়া এখানকার ১৭ দশমিক ৫৭ একর জমির ১৩টি ভবনের মধ্যে আটটিই স্বাধীনতার আগের (১৯৩৭ থেকে ১৯৪৭ সালের মধ্যে নির্মিত)। ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি কর্মী ও শৌচাগারের স্বল্পতার কারণে সেখানে স্বাস্থ্যকর কর্মপরিবেশ বজায় রাখাও কঠিন হয়ে পড়েছে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি এক সংবাদ সম্মেলনে নতুন এই প্রকল্পের বিস্তারিত তুলে জানান—
অবস্থান ও আয়তন: শেরেবাংলা নগরের পুরনো বাণিজ্যমেলার মাঠে ৩১ একর জায়গাজুড়ে এটি নির্মিত হবে। স্থপতি লুই আই কানের মূল ভাবনার সঙ্গে মিল রেখে এর নান্দনিক নকশা করা হবে।
কাঠামো: ৩৩ লাখ ১৬ হাজার বর্গফুট আয়তনের এই কমপ্লেক্সে ১২ তলাবিশিষ্ট ১৪টি ভবন থাকবে।
সুযোগ-সুবিধা: প্রকল্পে ৩ হাজার ৮০০ গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা (৩টি বেজমেন্ট ও ২০০টি ভূ-উপরিস্থ পার্কিং), মসজিদ, দুটি মাল্টিপারপাস হল, ক্যাফেটেরিয়া, ব্যায়ামাগার, পাসপোর্ট অফিস এবং ডাকঘর থাকবে।
পরিবেশ ও যোগাযোগ: পুরো এলাকার ৩০ শতাংশ জায়গায় সবুজায়ন ও জলাধার রাখা হবে। পাশাপাশি, যানজট এড়াতে আশপাশে বেশ কিছু ভূগর্ভস্থ সড়ক, আন্ডারপাস নির্মাণ এবং বিদ্যমান রাস্তার প্রশস্ততা বাড়ানো হবে।
এদিকে, সরকার নিজেই এই প্রকল্পের অর্থায়ন করলেও এতে মোট কত ব্যয় হবে তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নতুন সচিবালয় চালু হওয়ার পর পুরনো সচিবালয়ের ভবনগুলোতে পুরান ঢাকাকেন্দ্রিক কিছু অফিস কিংবা ভাড়া ভবনে চলা সরকারি অফিসগুলোকে স্থানান্তর করা হতে পারে।
এদিনের বৈঠকে সচিবালয় স্থানান্তর ছাড়াও আরও দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে—
১. নাম পরিবর্তন: ‘মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়’-এর নাম পরিবর্তন করে নতুন নাম রাখা হয়েছে ‘নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়’।
২. রটারডাম কনভেনশন: বিপজ্জনক রাসায়নিক ও কীটনাশকের আমদানি-রপ্তানি এবং ব্যবস্থাপনায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়াতে ‘রটারডাম কনভেনশন’-এ বাংলাদেশের যুক্ত হওয়ার প্রস্তাবে সায় দিয়েছে মন্ত্রিসভা। এর ফলে ক্ষতিকর রাসায়নিকের নেতিবাচক প্রভাব সম্পর্কে জেনেই তা আমদানির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারবে দেশ। বর্তমানে বিশ্বের ১৬৭টি দেশ এই কনভেনশনের সদস্য।
নিউজটি আপডেট করেছেন : News Upload
কমেন্ট বক্স