ঢাকা , রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬ , ১০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আওয়ামী লীগর সাবেক মন্ত্রীর আত্মীয় পরিচয়ে চাকরি পাওয়া মাসুম বিল্লাহ এখন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে

স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় : ২৫-১০-২০২৬ ০২:৩৪:৪৮ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ২৫-১০-২০২৬ ০২:৩৪:৪৮ অপরাহ্ন
আওয়ামী লীগর সাবেক মন্ত্রীর আত্মীয় পরিচয়ে চাকরি পাওয়া মাসুম বিল্লাহ এখন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে



ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ-২-এর চলতি দায়িত্বে থাকা নির্বাহী প্রকৌশলী মাসুম বিল্লাহর পদায়ন ও দুর্নীতি ঘিরে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক মন্ত্রী আমির হোসেন আমুর আত্মীয় পরিচয়ে চাকরি পাওয়া মাসুম বিল্লাহর এখন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ স্থাপনার সার্বিক দায়িত্বে। এমন একটি স্পর্শকাতর জায়গায় তার পদায়ন পক্ষান্তারে প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা।

অভিযোগ রয়েছে, ৩৩তম বিসিএস ক্যাডারের এই কর্মকর্তা নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে এবং লটারির ক্যাটাগরির মানদণ্ড বদলে কাঙ্ক্ষিত পদায়ন হাতিয়ে নিয়েছেন। গণপূর্ত অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (সংস্থাপন) সরোয়ার জাহান বিপ্লবকে তিন কোটি টাকা ঘুষ দিয়ে মাসুম বিল্লাহ এই বদলি বাগিয়ে নেন বলে চাউর হয়েছে। এমনকি অগ্রিম অর্থ লেনদেনের একটি স্পর্শকাতর ভিডিওচিত্র দৈনিক মানব কথার হাতে রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে। এর আগে ২০১৬ সালে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা কোটায় চাকরি পেয়ে আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা ও সাবেক মন্ত্রী আমির হোসেন আমুর আত্মীয় পরিচয়ে প্রথম পদায়ন হিসেবে নগর গণপূর্ত বিভাগে স্টাফ অফিসার হিসেবে যোগ দেন মাসুম বিল্লাহ। সেখান থেকেই শুরু হয় তার দ্রুত ধনকুবের হয়ে ওঠার গল্প।

নগর গণপূর্ত বিভাগে দায়িত্ব পালনকালে টেন্ডার ও ঠিকাদারি নিয়ন্ত্রণ করতেন মাসুম বিল্লাহ। গোপালগঞ্জের ছাত্রলীগ ক্যাডার দীন ইসলামের মালিকানাধীন এস এ এন্টারপ্রাইজসহ ক্ষমতাসীন দলের নিজস্ব ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে অনিয়মের মাধ্যমে কাজ পাইয়ে দিয়ে এক থেকে দুই শতাংশ হারে কমিশন বাণিজ্য চালান তিনি। তিনটি অর্থবছরে শুধু এই খাত থেকেই প্রায় দুই কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। পরবর্তীতে উপবিভাগীয় প্রকৌশলী (এসডিই) হিসেবে পদোন্নতি পেয়ে মিরপুর উপবিভাগ-২-এ দায়িত্ব নেওয়ার পর পাইকপাড়া অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্পসহ বিভিন্ন প্রকল্পে ভুয়া বিল-ভাউচার ও অগ্রিম অর্থ প্রদানের মাধ্যমে তৎকালীন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের যোগসাজশে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেন। এর চার বছর পর আমির হোসেন আমুর সুপারিশে শের-ই-বাংলা নগর ৩ নম্বর উপবিভাগে পদায়ন পেয়ে পরোক্ষ ঠিকাদারি ও ঘুষ বাণিজ্যে তিনি আরও লাগামহীন হয়ে পড়েন।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, ঝালকাঠির রাজাপুরের কাঠিরপাড়া গ্রামে একসময় মাসুম বিল্লাহদের একটি সাধারণ ভাঙা টিনের ঘর ছিল। তবে গণপূর্ত অধিদপ্তরের চাকরিতে যোগ দিয়ে রাজনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে অল্প সময়েই অলৌকিক আলাদিনের চেরাগ হাতে পান তিনি। নিজের গ্রামের বাড়িতে গড়ে তোলেন বিপুল সম্পদ। ২০২৪ সালের ২৮ মার্চ থেকে শুরু করে ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও কোটি টাকার বিনিময়ে স্বমহিমায় একই চেয়ারে টিকে আছেন এই কর্মকর্তা। এতে এতদিন ধরে বঞ্চিত ও শোষিত প্রকৌশলী এবং ঠিকাদারদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। অনতিবিলম্বে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে ক্ষুব্ধ বঞ্চিতদের রোষানলে পড়ে অপ্রীতিকর কোনো ঘটনা ঘটলে তার দায়ভার বর্তমান গণপূর্ত প্রশাসনকেই নিতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বৈষম্যবিরোধী প্রকৌশলী।

ইতোমধ্যে মাসুম বিল্লাহর ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদ ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের নানা অভিযোগ দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) জমা পড়েছে। সম্প্রতি দুদক মাসুম বিল্লাহ, তার বড় ভাই শফিউল বসর ও স্ত্রী নাইমা আক্তার সুমার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অনুসন্ধান শুরু করেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা যায়, বিগত সরকারের আমলে এই পরিবারটি নির্বাচনে বিপুল অর্থ ঢালত এবং তাদের বাড়িতে সবসময় নগদ টাকা ও সোনা মজুত থাকত। এমনকি গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পতন ও দেশত্যাগের আগে অনেক আওয়ামী লীগ নেতা তাদের বাড়িতে কোটি কোটি টাকা গচ্ছিত রেখে যান। গত ২০২৪ সালের ৫ অক্টোবর রাতে তাদের বাড়িতে এক ডাকাতির ঘটনায় ১৫ থেকে ২০ কোটি টাকা এবং কয়েকশত ভরি সোনা লুট হয় বলে গ্রামবাসীরা জানান। কিন্তু অর্থের বৈধ উৎস না থাকায় থানায় লিখিত এজাহারে তারা মাত্র ১৩ ভরি সোনা, ৭ লাখ ৫৭ হাজার টাকা ও চারটি মোবাইল ফোন চুরির কথা উল্লেখ করে প্রকৃত তথ্য গোপন করেন।

আওয়ামী লীগ আমলে ক্ষমতার দাপট ও বিপুল অর্থের বিনিময়ে সব অভিযোগ ধামাচাপা দিলেও বর্তমানে তার একের পর এক অপকর্ম প্রকাশ পাচ্ছে। এ বিষয়ে ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মাসুম বিল্লাহর কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি সব অভিযোগ পাশ কাটিয়ে দাবি করেন, তার এই সংবেদনশীল স্থানে পদায়ন ও দায়িত্বের বিষয়ে এনএসআই এবং ডিজিএফআই অবগত রয়েছে।


নিউজটি আপডেট করেছেন : News Upload

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ