ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬ , ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যুক্তরাষ্ট্র-কিউবা তর্কযুদ্ধ, অধিবেশন স্থগিত করলেন খলিলুর রহমান

স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় : ২৮-১০-২০২৬ ০৫:০৫:০৫ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ২৮-১০-২০২৬ ০৫:০৫:০৫ অপরাহ্ন
যুক্তরাষ্ট্র-কিউবা তর্কযুদ্ধ, অধিবেশন স্থগিত করলেন খলিলুর রহমান



কিউবার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ নিয়ে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে বিতর্কের সময় উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ে জড়িয়ে পড়েন দেশ দুটির প্রতিনিধিরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শেষ পর্যন্ত অধিবেশন সাময়িকভাবে স্থগিত করতে হয় সাধারণ পরিষদের সভাপতি ও বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানকে।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত ওই বিতর্কে যুক্তরাষ্ট্রের জাতিসংঘে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ কিউবার শাসনব্যবস্থার কঠোর সমালোচনা শুরু করলে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। মার্কিন সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।


ওয়াল্টজের বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে কিউবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রুনো রদ্রিগেজ পারিল্লা ও দেশটির প্রতিনিধিদলের সদস্যরা নিজেদের আসন থেকে চিৎকার করতে থাকেন এবং বিভিন্ন অঙ্গভঙ্গি করেন। এ সময় খলিলুর রহমান বারবার হাতুড়ি ঠুকে তাদের শান্ত হওয়ার আহ্বান জানান। তবে তাতে পরিস্থিতি শান্ত হয়নি।

ওয়াল্টজ তখন বলেন, ‘আমি আশা করি, জনাব সভাপতি, সবাই এখন প্রতিনিধিদলের আচরণ শুনছেন।’ এরপর তিনি কিউবার রাজনৈতিক পরিস্থিতির সমালোচনা করে বলেন, হাভানায় কেউ এ ধরনের প্রশ্ন তুললে তার পরিণতি কী হতে পারে, তা ভেবে দেখা উচিত।

পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় কিউবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও ওয়াল্টজের মধ্যে আরও উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়। ওয়াল্টজ বলেন, ‘এটি আমেরিকা, এটি জাতিসংঘ। এটি আপনাদের কমিউনিস্ট একনায়কতন্ত্র নয়। আপনারা আমাকে কিংবা আমার সহকর্মীদের চুপ করাতে পারবেন না।’

একপর্যায়ে রদ্রিগেজ পারিল্লা সভাকক্ষের সামনের দিকে এগিয়ে গেলে ওয়াল্টজ তাকে বক্তৃতামঞ্চ থেকে দূরে সরে যেতে বলেন। তিনি চিৎকার করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে তাকে কেউ ভয় দেখাতে পারবে না এবং তিনি দেশটির প্রতিনিধি।

এ পরিস্থিতিতে অধিবেশন সাময়িকভাবে স্থগিত করেন খলিলুর রহমান। পরে জাতিসংঘের অধিবেশন পরিচালনার নিয়ম ব্যাখ্যা করে কিউবার পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে প্রক্রিয়াগত বিষয়ে আপত্তি জানানোর সুযোগ দেন তিনি। তবে ওয়াল্টজের বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে আলোচনা না করার শর্ত দেওয়া হয়।


এরপর নিজের আসনে ফিরে রদ্রিগেজ পারিল্লা ওয়াল্টজের অভিযোগের প্রতিবাদ জানান। তিনি মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বক্তব্যকে ‘নির্লজ্জ মিথ্যাচার’ বলে অভিহিত করেন।

পরে আর বড় ধরনের কোনো বিঘ্ন ছাড়াই বক্তব্য শেষ করেন ওয়াল্টজ। এ সময় তিনি জাতিসংঘের সদস্যদেশগুলোকে আলোচ্য প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।


সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাল্টা আক্রমণঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ওয়াল্টজের সমালোচনা করেন রদ্রিগেজ পারিল্লা। তিনি অভিযোগ করেন, ওয়াল্টজ তার ঔদ্ধত্য ও অহংকারের কারণে ভুলে গেছেন যে তিনি জাতিসংঘে রয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদে নন। এমনকি মার্কিন সেনাবাহিনীর বিশেষ বাহিনী গ্রিন বেরেটসের কোনো ইউনিট কিংবা সিগন্যালের কোনো গ্রুপেও নন। এসব ক্ষেত্রে ওয়াল্টজ নিজের অযোগ্যতা ও অক্ষমতার পরিচয় দিয়েছেন বলেও মন্তব্য করেন কিউবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী।


ওয়াল্টজ যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর স্পেশাল ফোর্সেসের সাবেক সদস্য। এর আগে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময়ও বিতর্কে জড়িয়েছিলেন তিনি। গত বছর ইয়েমেনে হুথিদের ওপর হামলা নিয়ে আলোচনার একটি সিগন্যাল গ্রুপে ভুলবশত এক সাংবাদিককে যুক্ত করার ঘটনা সামনে আসে। ওই গ্রুপে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সসহ শীর্ষ জাতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তারা ছিলেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওয়াল্টজকে জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত হিসেবে মনোনয়ন দেন। একই সময়ে তিনি ঘোষণা করেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার দায়িত্বও পালন করবেন


নিউজটি আপডেট করেছেন : News Upload

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ