সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে বেসরকারি খাতের শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার আহ্বান মুক্তিজোটের
স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় :
০২-১১-২০২৬ ১০:১৬:৩৮ পূর্বাহ্ন
আপডেট সময় :
০২-১১-২০২৬ ১০:১৬:৩৮ পূর্বাহ্ন
দেশের তৈরি পোশাকশিল্পের শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি, জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন ও শ্রমিক অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবির প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট।
১১ই নভেম্বর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে মুক্তিজোটের সংগঠন প্রধান আবু লায়েস মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ শাহজামাল আমিরুল বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান ভিত্তি ‘তৈরি পোশাকশিল্প’। অথচ যেসব শ্রমিকের শ্রম ও ঘামে এই শিল্পের প্রবৃদ্ধি, রপ্তানি আয় এবং মালিকপক্ষের মুনাফা নিশ্চিত হচ্ছে, তাঁদের জীবনমান আজও প্রত্যাশিত পর্যায়ে পৌঁছায়নি। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, শিক্ষা ও নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যয়ের চাপে শ্রমিকদের জীবন ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে। এই বাস্তবতায় শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরির দাবি কোনো দয়া বা অনুকম্পার বিষয় নয়, এটি তাঁদের মৌলিক অধিকার।
নেতৃবৃন্দ বলেন, সম্প্রতি সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত প্রমাণ করে যে, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির এই সময়ে বেতন-ভাতা বাড়ানোর দাবি সম্পূর্ণ যৌক্তিক। কারণ বাজারে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির অভিঘাত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও পোশাকশ্রমিক- সবার ওপরই সমানভাবে পড়ে। সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়বে অথচ দেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি পোশাকশ্রমিকদের মজুরি ও জীবনমান উপেক্ষিত থাকবে-এমন বৈষম্যমূলক অর্থনৈতিক বাস্তবতা কোনোভাবেই কাম্য হতে পারে না।
তাঁরা আরও বলেন, রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক নীতিতে শুধু একটি শ্রেণির আয় ও সুযোগ-সুবিধা বিবেচনা করলে চলবে না। শ্রমের মর্যাদা, ন্যায্য বণ্টন এবং সব শ্রেণি-পেশার মানুষের জীবনমান নিশ্চিত করাই হওয়া উচিত অর্থনৈতিক উন্নয়নের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। শিল্পের মুনাফা বাড়বে, রপ্তানি আয় বাড়বে, অথচ শ্রমিকের সংসারে স্বস্তি ফিরবে না—এই উন্নয়ন কখনোই অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন হতে পারে না।
মানুষ ও মনুষ্যত্বের মুক্তি এবং মানবীয় মর্যাদা প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে মুক্তিজোট পোশাক শ্রমিকদের ন্যায্য দাবির প্রতি পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করে শ্রমের মর্যাদা, ন্যায্য মজুরি ও মানবিক জীবন নিশ্চিত করার জন্য সরকার ও মালিকপক্ষের প্রতি অবিলম্বে নিম্মোক্ত পদক্ষেপসমূহ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে।
১. বর্তমান বাজারদর ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পোশাকশ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি পুনর্নির্ধারণ করতে হবে।
২. সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বেসরকারি খাতের শ্রমিকদের আয় ও জীবনমান উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।
৩. শ্রমিকদের বেতন, ওভারটাইম ও অন্যান্য প্রাপ্য নির্ধারিত সময়ে পরিশোধ নিশ্চিত করতে হবে।
৪. কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা, সামাজিক সুরক্ষা ও মানবিক কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।
৫. শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি উত্থাপনের অধিকার এবং শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষা করতে হবে।
৬. শ্রমিক-মালিক-সরকারের ত্রিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমে শ্রমিক অসন্তোষের স্থায়ী ও গ্রহণযোগ্য সমাধান নিশ্চিত করতে হবে।
৭. শ্রমিক নেতাদের ওপর নির্যাতন ও হয়রানি বন্ধ করতে হবে এবং তাদের সংগঠন ও ধর্মঘটের অধিকার সুনিশ্চিত করতে হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করেন মুক্তিজোট বিশ্বাস করে, শ্রমিকের অধিকার প্রতিষ্ঠা মানে শুধু একটি শিল্পের উন্নয়ন নয়, বরং দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক ন্যায়বিচার, সামাজিক ভারসাম্য ও মানবিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম।
নিউজটি আপডেট করেছেন : News Upload
কমেন্ট বক্স