ঢাকা , বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬ , ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নতুন রূপে ফিরছে আজিমপুরের ‘আজব ভবন

স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় : ০৪-১১-২০২৬ ০২:২৩:৩৫ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ০৪-১১-২০২৬ ০২:২৩:৩৫ অপরাহ্ন
নতুন রূপে ফিরছে আজিমপুরের ‘আজব ভবন




রাজধানীর আজিমপুরে দাঁড়িয়ে রয়েছে পাকিস্তান আমলে নির্মিত এক ব্যতিক্রমী ভবন। বাইরে থেকে সাধারণ দোতলা স্থাপনা মনে হলেও ভেতরে ঢুকলেই চোখে পড়ে একের পর এক বিস্ময়। প্রতিটি কক্ষের ভেতরে রয়েছে সিঁড়ি, আর সেই সিঁড়ি বেয়ে উঠলেই মেলে আরেকটি শোয়ার ঘর। অদ্ভুত এই নির্মাণশৈলীর কারণেই ভবনটির নাম হয়েছে ‘আজব ভবন’।

সময়ের পরিক্রমায় হারিয়ে যেতে বসা এই স্থাপনাটি এবার ফিরছে নতুন রূপে। সৌন্দর্যবর্ধনের পাশাপাশি ভবনটিকে হেরিটেজ হিসেবে সংরক্ষণেরও পরিকল্পনা করছে গণপূর্ত অধিদপ্তর। জানা গেছে, ভবনটি ১৯৫৪ সালে নির্মিত। পাকিস্তান আমলে এটি ‘এমএলএ হাউস’ নামে পরিচিত ছিল।


বুধবার (৪ নভেম্বর) সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, দুই তলা এ ভবনটির প্রতিটি শোয়ার কক্ষে ঢুকতেই চোখে পড়ে একটি করে সিঁড়ি। কক্ষে রয়েছে ওয়াশরুম ও রান্নাঘর। সিঁড়ি বেয়ে ওপরে উঠলে দেখা যায়, নিচের কক্ষের ছাদের ওপর তৈরি করা হয়েছে আরেকটি শোয়ার ঘর। সেই ঘরেও রয়েছে আলাদা ওয়াশরুম ও রান্নাঘর। ভবনটির এমন ব্যতিক্রমী নির্মাণশৈলীর কারণে লোকমুখে এর নাম ‘আজব ভবন’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।

আজিমপুর সরকারি অফিসার্স কলোনির এ ব্লকে ২০টি কক্ষের এই ভবনের তিনটি কক্ষে থাকেন তিনজন নিরাপত্তাকর্মী। অন্য একটি কক্ষ ব্যবহার করা হচ্ছে কলোনির নিরাপত্তা ইনচার্জের কার্যালয় হিসেবে। ভবনটির বিভিন্ন অংশে চলছে রং করার কাজ। কেউ ব্যস্ত আঙিনা পরিষ্কারে, আবার কেউ ভবনের আশপাশের অংশ গোছানোর কাজে নিয়োজিত। সংস্কার ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজের কারণে ভবনটিতে এখন দেখা যাচ্ছে নতুন রূপ।

গণপূর্ত বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ব্যতিক্রমী নির্মাণশৈলীর এই ভবনটিকে ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্য (ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ) তালিকায় অন্তর্ভুক্তির জন্য আবেদন করা হয়েছে। ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও স্থাপত্যশৈলী বিবেচনায় ভবনটিকে সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আজিমপুরের স্থানীয় বাসিন্দা হৃদয় হাসান বলেন, এই ভবনটা অনেক আগে থেকেই দেখে আসছি। ভবনটা দেখতে অন্যগুলোর মতো নয়। এর প্রতিটি ঘরের ভেতরে সিঁড়ি। ওপরেও আলাদা ঘর রয়েছে। সব মিলিয়ে একটু ব্যতিক্রম। এ কারণে এটাকে আজব ভবন বলে চিনি। এখন রং করার পর দেখতে বেশ সুন্দর লাগছে। আগে এটা যারা দেখেননি, তারা ভবনটির গঠন দেখে অবাক হবেন।


আজিমপুর গণপূর্ত বিভাগ-১-এর ওয়ার্ক অ্যাসিস্ট্যান্ট মোহাম্মদ কায়েস মিয়া বলেন, আশপাশের ভবনগুলোর তুলনায় এটি কিছুটা অপরিচ্ছন্ন দেখায়। তাই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্য বজায় রাখতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশক্রমে ভবনটির মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজ করা হচ্ছে। তবে ভবনটি পরিত্যক্ত। শুনেছি ব্রিটিশ আমলে উচ্চপদস্থ সেনা কর্মকর্তারা এখানে বসবাস করতেন।

এবিষয়ে আজিমপুর গণপূর্ত উপবিভাগ-১-এর উপবিভাগীয় প্রকৌশলী সৌরভ বিশ্বাস  বলেন, এই ভবনটি প্রায় ৮০ বছর পুরোনো। এটাকে হেরিটেজ হিসেবে সংরক্ষণের পরিকল্পনা রয়েছে। আপাতত ভবনটির বাইরের অংশের রং ও মেরামতের কাজ করে সৌন্দর্যবর্ধন করা হচ্ছে। পাশের ভবনগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এটিকে দৃষ্টিনন্দন করা হবে। ভবনটির ভেতরে আপাতত কোনো কাজের পরিকল্পনা নেই। ভবিষ্যতে জাদুঘর বা অন্য কোনো কাজে ব্যবহারের পরিকল্পনা নেওয়া হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নকশা ও নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।


নিউজটি আপডেট করেছেন : News Upload

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ