গাজায় গণবিয়ের জন্য ১১৬২২ আবেদনকারী, ৫০০ বর-কনে বাছাই যেভাবে
ডেস্ক রিপোর্ট
আপলোড সময় :
০৮-১১-২০২৬ ০৫:০১:৩২ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
০৮-১১-২০২৬ ০৫:০১:৩২ অপরাহ্ন
যুদ্ধ, ধ্বংসযজ্ঞ ও বাস্তুচ্যুতির মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে কঠিন সময় পার করছেন ফিলিস্তিনের গাজার বাসিন্দারা। এর মধ্যেই কিছুটা আনন্দ ও স্বস্তির উপলক্ষ হয়ে এসেছে ২৫০ ফিলিস্তিনি যুগলের গণবিয়ে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে অংশ নেন ৫০০ বর-কনে। তাদের সঙ্গে আনন্দে শামিল হন হাজারো স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দা।
গত ৬ নভেম্বর শুক্রবার গাজা সিটির ভূমধ্যসাগরীয় উপকূলে অবস্থিত মেরিন ক্লাব প্রাঙ্গণে এ গণবিয়ের আয়োজন করা হয়। ইউএইর মানবিক সহায়তা কার্যক্রম ‘অপারেশন গ্যালান্ট নাইট-৩’ বা ‘অপারেশন শিভালরাস নাইট-৩’-এর আওতায় ‘থৌব আল ফারাহ-৩’ (আনন্দের পোশাক) উদ্যোগের অংশ হিসেবে এই আয়োজন করা হয়।
বিয়ের অনুষ্ঠানে কনেরা সাদা বিয়ের পোশাক ও হাতে ফুলের তোড়া নিয়ে অংশ নেন। বরদের অনেকেই পরেছিলেন কালো বা গাঢ় রঙের স্যুটের সঙ্গে ফিলিস্তিনি ঐতিহ্যের প্রতীক কেফিয়াহ। সাজানো গাড়িতে করে নবদম্পতিরা অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছালে তাদের স্বাগত জানান স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা। পরে সংগীত ও নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে উদ্যাপিত হয় বিয়ের অনুষ্ঠান।
আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, এই গণবিয়েতে অংশ নিতে ১১ হাজার ৬২২ জন আবেদন করেছিলেন। যাচাই-বাছাই শেষে ১ হাজার ৩৩৫ জনকে চূড়ান্ত লটারির জন্য নির্বাচিত করা হয়। সেখান থেকে ২৫০ জন বরকে বেছে নেওয়া হয়। তাদের সঙ্গে ২৫০ কনের বিয়ে সম্পন্ন হয়।
যুদ্ধের কারণে অনেক তরুণ-তরুণীর বিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আটকে ছিল। বাস্তুচ্যুতি, বাড়িঘর হারানো এবং আর্থিক সংকটের কারণে অনেক পরিবারের পক্ষে বিয়ের আয়োজন করা সম্ভব হচ্ছিল না। এমন পরিস্থিতিতে গণবিয়ের আয়োজন নবদম্পতিদের আর্থিক চাপ কমানোর পাশাপাশি নতুন জীবন শুরুর সুযোগ করে দিয়েছে।
অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া কয়েকজন বর তাদের দুর্দশার কথাও তুলে ধরেন। তাদের একজন সাঈদ আল-নাজ্জার জানান, ইসরাইলি হামলায় তাদের বাড়িঘর ধ্বংস হয়ে গেছে। বর্তমানে জাবালিয়া শরণার্থী শিবিরের কাছে তাঁবুতে বসবাস করছেন তিনি।
আরেক বর মুহাম্মদ কুওয়াইদির জানান, বাড়ি হারানোর পর নতুন করে বাড়ি ভাড়া নেওয়া কিংবা কেনার সামর্থ্য তার নেই। বিয়ের পর স্ত্রীকে নিয়ে কোথায় থাকবেন—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তারা তাঁবুতেই থাকবেন।
তবে এত প্রতিকূলতার মধ্যেও বিয়ের আনন্দকে জীবনের প্রতি ফিলিস্তিনিদের ভালোবাসা ও বেঁচে থাকার প্রত্যয়ের প্রতীক হিসেবে দেখছেন অনেকে।
ইউএইর প্রেসিডেন্টের কূটনৈতিক উপদেষ্টা আনোয়ার গারগাশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় বলেন, বিশ্বের মনোযোগ অন্য সংকটের দিকে সরে গেলেও গাজা ও সেখানকার মানুষ ইউএইর মানবিক সহায়তার অগ্রাধিকারেই থাকবে। তার মতে, মানবিক সহায়তা শুধু মানুষের দুর্ভোগ কমানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; মানুষের মুখে হাসি ফোটানো এবং সুন্দর ভবিষ্যতের আশা ফিরিয়ে দেওয়াও এর অংশ।
উল্লেখ্য, গাজায় ফিলিস্তিনিদের সহায়তায় ২০২৩ সালের ৫ নভেম্বর ‘অপারেশন শিভালরাস নাইট-৩’ শুরু করে সংযুক্ত আরব আমিরাত। এর আওতায় খাদ্য, চিকিৎসাসামগ্রী, আশ্রয় উপকরণসহ বিভিন্ন ধরনের মানবিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। ইউএইর সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এই কার্যক্রমের মাধ্যমে গাজায় এ পর্যন্ত ১ লাখ ৩৬ হাজার টনের বেশি সহায়তা পৌঁছানো হয়েছে।
এটি উদ্যোগটির আওতায় তৃতীয় গণবিয়ের আয়োজন। এর আগে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ৫৪ যুগল এবং ২০২৬ সালের এপ্রিলে দেইর আল-বালাহতে ৩০০ যুগলের গণবিয়ের আয়োজন করা হয়েছিল।
তথ্যসূত্র: আলজাজিরা, দ্য ন্যাশনাল, রোয়া নিউজ ও গালফ নিউজ
নিউজটি আপডেট করেছেন : News Upload
কমেন্ট বক্স