প্রতিবেদন: তাবাসসুম স্নেহা
তারিখ: ১১ মার্চ ২০২৬
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের (ডিপিএইচই) নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ ফয়েজুল ইসলাম সুমন এর বিরুদ্ধে সীমাহীন দুর্নীতি, সেচ্ছাচারিতা ও নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ, টেন্ডার বাণিজ্য, ঘুষ গ্রহণ এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়মের মাধ্যমে তিনি সরকারি সম্পদের অপব্যবহার করেছেন।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, তিনি ২০১২ সালের আগস্ট মাসে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরে যোগদান করেন এবং যোগদানের পর থেকেই ঢাকার প্রধান কার্যালয়ে কর্মরত রয়েছেন। দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে অবস্থান করায় প্রতিষ্ঠানের নীতিমালার ব্যত্যয় ঘটেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
অভিযোগ রয়েছে, ভবন মেরামত, প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ এবং বিভিন্ন টেন্ডার প্রক্রিয়ায় তিনি প্রায় ১০ শতাংশ হারে ঘুষ গ্রহণ করতেন। এছাড়া “ওহী ট্রেডাস” নামক একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রায় ১ কোটি ২৬ লাখ টাকার টেন্ডার বাণিজ্যের সাথেও তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে। তার বিরুদ্ধে ঠিকাদারি লাইসেন্স বাণিজ্যের অভিযোগও রয়েছে।
তথ্য অনুযায়ী, তিনি ২০০৮ সালে ২৮তম বিসিএস পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী তিনি শুধুমাত্র সাধারণ ক্যাডারের লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন, তবে টেকনিক্যাল ক্যাডারের লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হননি। ফলে তাকে বিসিএস (জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল) ক্যাডারে অন্তর্ভুক্ত করার কোনো আইনি ভিত্তি ছিল না বলে অভিযোগ উঠেছে।
পরবর্তীতে ২০১১ সালের ৮ মে তিনি নন-ক্যাডার পদে নিয়োগপ্রাপ্ত হন। অভিযোগ রয়েছে, তৎকালীন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মোঃ তাজুল ইসলাম এবং তৎকালীন যুগ্ম সচিব মোঃ খাইরুল ইসলাম এর যোগসাজশে ২০১৯ সালের ২২ জানুয়ারি প্রথমবার তাকে বিসিএস (জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল) ক্যাডারে অন্তর্ভুক্ত করা হয়, যদিও পরে স্থানীয় সরকার বিভাগ ওই প্রজ্ঞাপন বাতিল করে।
পরবর্তীতে আবার ২০২২ সালের ১৫ জুন তাকে দ্বিতীয়বার বিসিএস (প্রকৌশল) ক্যাডারে অন্তর্ভুক্ত করা হয়, যেখানে কোনো প্রকৃত যোগদানপত্র ছাড়াই তাকে রাজস্ব খাতে যোগদানের তারিখ থেকে ভূতাপেক্ষভাবে ক্যাডারভুক্ত করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে অভিযোগ রয়েছে, দুর্নীতি দমন কমিশনে অভিযুক্ত জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী তুষার মোহন সাধু খাঁ প্রায় অর্ধ কোটি টাকার বিনিময়ে মিথ্যা তথ্য প্রদান করে ফয়েজুল ইসলাম সুমনকে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী পদে চলতি দায়িত্ব দেওয়ার প্রস্তাব দেন। যা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিধি-১ শাখার প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী বিধি ৮, উপবিধি (৪) এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
অভিযোগ অনুযায়ী, বিসিএস ক্যাডার পদে স্থায়ীকরণের জন্য বাধ্যতামূলক বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ ও বিভাগীয় পরীক্ষায় অংশগ্রহণ না করেও তিনি নির্বাহী প্রকৌশলী পদে পদোন্নতি লাভ করেছেন। এমনকি সিনিয়র স্কেল পদোন্নতি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের আবেদনও বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন বাতিল করে, কারণ তিনি প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ করতে পারেননি।
অন্যদিকে সরাসরি বিসিএস (জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল) ক্যাডারে যোগদানকারী এবং পদোন্নতির সকল শর্ত পূরণকারী ১০ জন কর্মকর্তা দীর্ঘদিন ধরে নির্বাহী প্রকৌশলী পদে পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত রয়েছেন বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে ঢাকার মাটিঘাটা কালশি আবাসিক এলাকার বাসিন্দা মোঃ ফারুখ হোসেন গত ১১ মে ২০২৫ তারিখে স্থানীয় সরকার বিভাগ, স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগের বিষয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ ফয়েজুল ইসলাম সুমন এর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। বরং আনন্দ টেলিভিশনের একজন সাংবাদিককে দিয়ে এই বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন এবং নিজে যোগাযোগ না করে আনন্দ টেলিভিশনের সাংবাদিকের মাধ্যমে অভিযোগের বিস্তারিত জানতে চেয়েছেন।
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে দ্রুত তদন্ত প্রয়োজন।
তারিখ: ১১ মার্চ ২০২৬
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের (ডিপিএইচই) নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ ফয়েজুল ইসলাম সুমন এর বিরুদ্ধে সীমাহীন দুর্নীতি, সেচ্ছাচারিতা ও নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ, টেন্ডার বাণিজ্য, ঘুষ গ্রহণ এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়মের মাধ্যমে তিনি সরকারি সম্পদের অপব্যবহার করেছেন।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, তিনি ২০১২ সালের আগস্ট মাসে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরে যোগদান করেন এবং যোগদানের পর থেকেই ঢাকার প্রধান কার্যালয়ে কর্মরত রয়েছেন। দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে অবস্থান করায় প্রতিষ্ঠানের নীতিমালার ব্যত্যয় ঘটেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
অভিযোগ রয়েছে, ভবন মেরামত, প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ এবং বিভিন্ন টেন্ডার প্রক্রিয়ায় তিনি প্রায় ১০ শতাংশ হারে ঘুষ গ্রহণ করতেন। এছাড়া “ওহী ট্রেডাস” নামক একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রায় ১ কোটি ২৬ লাখ টাকার টেন্ডার বাণিজ্যের সাথেও তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে। তার বিরুদ্ধে ঠিকাদারি লাইসেন্স বাণিজ্যের অভিযোগও রয়েছে।
তথ্য অনুযায়ী, তিনি ২০০৮ সালে ২৮তম বিসিএস পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী তিনি শুধুমাত্র সাধারণ ক্যাডারের লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন, তবে টেকনিক্যাল ক্যাডারের লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হননি। ফলে তাকে বিসিএস (জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল) ক্যাডারে অন্তর্ভুক্ত করার কোনো আইনি ভিত্তি ছিল না বলে অভিযোগ উঠেছে।
পরবর্তীতে ২০১১ সালের ৮ মে তিনি নন-ক্যাডার পদে নিয়োগপ্রাপ্ত হন। অভিযোগ রয়েছে, তৎকালীন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মোঃ তাজুল ইসলাম এবং তৎকালীন যুগ্ম সচিব মোঃ খাইরুল ইসলাম এর যোগসাজশে ২০১৯ সালের ২২ জানুয়ারি প্রথমবার তাকে বিসিএস (জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল) ক্যাডারে অন্তর্ভুক্ত করা হয়, যদিও পরে স্থানীয় সরকার বিভাগ ওই প্রজ্ঞাপন বাতিল করে।
পরবর্তীতে আবার ২০২২ সালের ১৫ জুন তাকে দ্বিতীয়বার বিসিএস (প্রকৌশল) ক্যাডারে অন্তর্ভুক্ত করা হয়, যেখানে কোনো প্রকৃত যোগদানপত্র ছাড়াই তাকে রাজস্ব খাতে যোগদানের তারিখ থেকে ভূতাপেক্ষভাবে ক্যাডারভুক্ত করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে অভিযোগ রয়েছে, দুর্নীতি দমন কমিশনে অভিযুক্ত জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী তুষার মোহন সাধু খাঁ প্রায় অর্ধ কোটি টাকার বিনিময়ে মিথ্যা তথ্য প্রদান করে ফয়েজুল ইসলাম সুমনকে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী পদে চলতি দায়িত্ব দেওয়ার প্রস্তাব দেন। যা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিধি-১ শাখার প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী বিধি ৮, উপবিধি (৪) এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
অভিযোগ অনুযায়ী, বিসিএস ক্যাডার পদে স্থায়ীকরণের জন্য বাধ্যতামূলক বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ ও বিভাগীয় পরীক্ষায় অংশগ্রহণ না করেও তিনি নির্বাহী প্রকৌশলী পদে পদোন্নতি লাভ করেছেন। এমনকি সিনিয়র স্কেল পদোন্নতি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের আবেদনও বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন বাতিল করে, কারণ তিনি প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ করতে পারেননি।
অন্যদিকে সরাসরি বিসিএস (জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল) ক্যাডারে যোগদানকারী এবং পদোন্নতির সকল শর্ত পূরণকারী ১০ জন কর্মকর্তা দীর্ঘদিন ধরে নির্বাহী প্রকৌশলী পদে পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত রয়েছেন বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে ঢাকার মাটিঘাটা কালশি আবাসিক এলাকার বাসিন্দা মোঃ ফারুখ হোসেন গত ১১ মে ২০২৫ তারিখে স্থানীয় সরকার বিভাগ, স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগের বিষয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ ফয়েজুল ইসলাম সুমন এর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। বরং আনন্দ টেলিভিশনের একজন সাংবাদিককে দিয়ে এই বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন এবং নিজে যোগাযোগ না করে আনন্দ টেলিভিশনের সাংবাদিকের মাধ্যমে অভিযোগের বিস্তারিত জানতে চেয়েছেন।
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে দ্রুত তদন্ত প্রয়োজন।