নিজস্ব বিশেষ প্রতিনিধি:
মোঃ নুরুল ইসলাম খোকন।
জলবায়ু পরিবর্তনের মারাত্মক ঝুঁকি মোকাবিলা এবং ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থানের চ্যালেঞ্জ কাটিয়ে একটি টেকসই ও সমতাভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে আজ এক গোলটেবিল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ ৮ জুন সকাল ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে 'জলবায়ু সংকট ও কাজের ভবিষ্যৎ: টেকসই ও ন্যায্য বাংলাদেশের পথে যাত্রা' শীর্ষক এই গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করে পরিবেশ ও সামাজিক উন্নয়ন বিষয়ক সংগঠন 'ন্যাশনাল অ্যালায়েন্স ফর জাস্ট ট্রানজিশন (NAJTb) প্রোগ্রাম'।
আলোচনার মূল বিষয়বস্তু
অনুষ্ঠানে বক্তারা জলবায়ু সংকটের কারণে বাংলাদেশের অর্থনীতি, কৃষি এবং বিশেষ করে শ্রমবাজারের ওপর নেমে আসা নেতিবাচক প্রভাবগুলো বিশদভাবে তুলে ধরেন। তারা উল্লেখ করেন, বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে উপকূলীয় অঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়ছে। এই সংকট কাটিয়ে উঠতে "জাস্ট ট্রানজিশন" বা "ন্যায্য রূপান্তর" নীতির ওপর জোর দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়, যেখানে পরিবেশ সুরক্ষার পাশাপাশি শ্রমিক ও সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব।
বক্তাদের গুরুত্বপূর্ণ মতামত
গোলটেবিল বৈঠকে অংশ নেওয়া বিশেষজ্ঞ, পরিবেশবিদ এবং শ্রমিক অধিকার আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি ও পরামর্শ তুলে ধরেন:
সবুজ কর্মসংস্থান (Green Jobs): জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নবায়নযোগ্য শক্তি এবং পরিবেশবান্ধব শিল্পখাতে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির তাগিদ দেওয়া হয়।
জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে যারা পেশা হারাচ্ছেন, তাদের নতুন যুগের উপযোগী প্রযুক্তি ও কাজে দক্ষ করে তুলতে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে বিশেষ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা।
ন্যায্য রূপান্তর (Just Transition): যেকোনো পরিবেশগত বা শিল্পনীতির পরিবর্তনের সময় যেন প্রান্তিক জনগোষ্ঠী ও শ্রমিকদের স্বার্থ ক্ষুণ্ন না হয়, তা নিশ্চিত করা।
"জলবায়ু সংকট কেবল পরিবেশের ক্ষতি করছে না, এটি আমাদের ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থানের জন্য এক বিরাট হুমকি। একটি ন্যায্য ও টেকসই বাংলাদেশ গড়তে হলে পরিবেশবান্ধব নীতি গ্রহণের পাশাপাশি খেটে খাওয়া মানুষের জীবিকার সুরক্ষা সবার আগে নিশ্চিত করতে হবে।"
ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা
আয়োজক সংগঠন NAJTb-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়, জলবায়ু ন্যায়বিচার এবং পরিবেশবান্ধব টেকসই অর্থনীতি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তারা সরকারের নীতিনির্ধারক, নাগরিক সমাজ এবং শ্রমিক সংগঠনগুলোর সাথে যৌথভাবে কাজ করে যাবে। পরিবেশ দূষণ রোধ এবং একটি ন্যায্য সমাজ বিনির্মাণে এই ধরনের আলোচনা আগামীতেও অব্যাহত থাকবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
উক্ত গোলটেবিল বৈঠকে বিভিন্ন পরিবেশবাদী সংগঠনের প্রতিনিধি, গবেষক, শ্রমিক নেতা এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।