ছোট ভাই-ভাবীর লোভ এবং চক্রান্তে বড় বোন হত্যা: নওগাঁ জেলার ধামইরহাট থানা এলাকায় ১ বৃদ্ধার ক্লুলেস

হত্যাকান্ডের রহস্য মামলা রুজুর ১ দিনের মধ্যে উদঘাটন, হত্যাকাণ্ডে জড়িত ৫ জন গ্রেফতার ও হত্যা কান্ডে ব্যবহৃত রশি, ওড়না উদ্ধার""

আপলোড সময় : ২৩-১০-২০২৬ ০৩:১৬:৫৩ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ২৩-১০-২০২৬ ০৩:১৬:৫৩ অপরাহ্ন
"" নওগাঁ থেকে (জেলা স্টাফ রিপোর্টার) মোঃ আকতার হোসেন। গত ১৯ অক্টোবর ২৬ সকাল সাড়ে আটটা থেকে নয়টার মধ্যে মধ্যে পুলিশ সংবাদ পায় যে, ধামুরহাট থানার ছিলিমপুর (তালবোনা) গ্রামে জনৈক হালিমা বেগম (৬৫) নামক ১ বৃদ্ধার মৃতদেহ তার বসতবাড়ি হতে প্রায় ৩০০ গজ দুরে বাঁশ ঝাড়ের নিচে জঙ্গলের পাশে ধানী জমির আইলে পড়ে আছে। ভোরে সংবাদটি স্পেশাল ব্রাঞ্চ এবং থানা থেকে পাওয়ার সাথে সাথে অফিসার ইনচার্জ এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পত্নীতলা সার্কেলকে ঘটনাস্থলে দ্রুত যাওয়ার নির্দেশনা প্রদান করেন জেলা পুলিশ সুপার। পুলিশের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে মনে হয় বৃদ্ধা মহিলা নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার। যার ১টি কানের লতি কাটা ছিল অপর কানের লতি ছিড়া ছিল। ঘটনা সংক্রান্তে ১৯ অক্টোবর ২৬ তারিখ ধামইরহাট থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা রুজু হয়। মামলা রুজুর পরপর পুলিশ সুপার নওগাঁ জনাব মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম এর সরাসরি তত্ত্বাবধানে পত্মীতলা সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জনাব মোঃ শরিফুল ইসলাম এবং অফিসার ইনচার্জ জনাব মোঃ মিন্টু রহমান এর নেতৃত্বে বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করা হয়। স্থানীয় তথ্য উপাত্ত বিশ্লেষণ করে ১৯ অক্টোবর গভীর রাতে অভিযান শুরু হয়। চৌকস আভিযানিক টিম ধামইরহাট থানার আলমপুর ইউনিয়নে অভিযান পরিচালনা করে ডিসিস্ট হালিমার ছোট ভাই মজনু রহমান (৫৬) পিতা- আলিমদ্দিন এবং মজনুর স্ত্রী মোসাঃ হোসনে আরা (৪২), উভয় সাং- ছিলিমপুর (তালবোনা) থানা- ধামইরহাট, জেলা নওগাঁদ্বয়কে প্রথমে গ্রেফতার করেন। জিজ্ঞাসাবাদে প্রাথমিকভাবে তারা হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। তাদের জিজ্ঞাসাবাদে পরবর্তীতে হত্যাকান্ডে অংশগ্রহনকারী আলমপুর ইউনিয়নের বস্তাবর গ্রাম হতে তদন্তে প্রাপ্ত আসামী মোঃ রবিউল ইসলাম (৩৯) পিতা- মোঃ শহিদুল ইসলাম, সাং- বস্তাবর, থানা-ধামইরহাটকে তার নিজ বাড়ী হতে এবং হত্যাকান্ডে অংশগ্রহন করা তদন্তে প্রাপ্ত আরও ২ জন আসামী মোঃ হামিদুর রহমান (৫৫), ২। মোঃ মোশারফ হোসেন (৪৫) উভয় পিতা-মৃত ইসমাইল হোসেন, সাং-ছিলিমপুর, থানা-ধামইরহাটদ্বয় কে গ্রেফতার করা হয়। এই হত্যা কান্ডে জরিত মোট ৫ খুনিকে অতি অল্প সময়ের মধ্যে গ্রেফতার করতে পুলিশ সক্ষম হয়। আসামীদের তথ্য মতে হত্যা কান্ডে ব্যবহৃত রশি ও ওড়না জব্দ করা হয় । জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানান ঘটনার প্রায় ৫ দিন পূর্বে তারা এ হত্যাকান্ডের পরিকল্পনা করেন। হত্যার কারন অনুসন্ধানে জানা যায়। মৃতা হালিমা নিঃ সন্তান ও স্বামী পরিত্যাক্তা। সে প্রায় ২০ বছর হতে তার পিতার বসত-বাড়িতে তার ছোট ভাই মজনুর বাড়ির পিছনে টিনের ছাপড়া দিয়ে ১টি কুড়ে ঘরের মতো করে বসবাস করে আসছিল। তিনি ১টি গরু, ৩টি ছাগল, কয়েকটি হাস-মুরগি পালন ও মানুষের বাড়িতে কাজ করে জিবিকা নির্বাহ করত। তার জমানো টাকা তার বড় ভাইয়ের ছেলে রুবেলের নিকট দিয়ে রাখতো। তাকে সে বিশ্বাস করত। সে তার ছোট ভাই মজনু ও ভাই বউকে কোন টাকা দিত না এই নিয়ে মাঝে মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়ে আসছিল। এছাড়াও তার ছোট ভাই মজনুর বাড়িতে হত্যাকান্ডে অংশগ্রহনকারী খুনিদের আসা যাওয়া ছিল যা সে পছন্দ করত না। এছাড়াও ধৃত আসামী রবিউল ইসলাম এলাকায় মাদক বিক্রির জন্য যেতো ডিসিস্ট হালিমা বাধা দিত, এর সহিত মাদক বিক্রির বিষয় নিয়ে মাঝে মধ্যে তর্কাতর্কি হতো। এছাড়াও অপর ২ আসামী হামিদুর এবং মোশারফের সহিত অনেক পূর্ব হতে তার বিরোধ ছিল। আসামি হামিদুর এবং মোশারফ ২ জন আবার ২ ভাই। বড় বোনের গরু, ছাগল, হাঁস মুরগির প্রতি লোভ, তার কানের দুলের প্রতি লোভ, জমি-জমার বিরোধ ও মাদক সংশ্লিষ্টতায় বাধা দেওয়ায় ছোট ভাই মজনু ও তার স্ত্রী হোসনেয়ারার পরিকল্পনায় বর্ণিত ৫ জন একত্রে হয়ে বৃদ্ধা হালিমা বেগমকে হত্যার পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনা অনুযায়ী ১৮ অক্টোবর২৬ তারিখ দিবাগত রাত্রী অনুমান সাড়ে এগারোটার দিকে ধৃত আসামী হামিদুর রহমান ডিসিস্ট বৃদ্ধা হালিমাকে তার ঘর থেকে ডেকে বের করেন। তৎক্ষনাত আসামীরা তার মুখ চেঁপে ধরে টেনে হিঁচড়ে তার বাড়ী হতে ২০০ গজ দুরে খড়ের পালার পিছনে নিয়ে গিয়ে তার হাত রশি দিয়ে বেঁধে গলা চেপে ধরে তার পরিহিত ওড়না দিয়ে শ্বাস রোধ করে তাকে হত্যা করেন। হত্যার পরবর্তীতে তার কানের দুল নেয়ার জন্য হামিদুর বৃদ্ধার এক কানের লতি কেটে ফেলে, এবং অপর কানের লতি ছিড়ে ফেলে । পরবর্তীতে লাশ গোপন করার উদ্দেশ্যে হামিদুর, রশিদুল ও রবিউল ৩ জন মিলে মৃতদেহটি নিয়ে পুকুরের পাড়ের নিচ দিয়ে নিয়ে বাঁশ ঝাড়ের ওপারে ফেলে রাখে। সেখানে মৃতার হাতের বাঁধন খুলে রশিটি ফেলে দেয়। পরবর্তীতে যেই ওড়না দিয়ে হত্যা করা হয় ওড়নাটি মৃতার ভাই আসামী মজনু মৃতার চোখ মুখের উপর ঢেকে দিয়ে সকল আসামীরা যে যার মতো বাড়িতে চলে যায়। কানের দুলের ১টি ছোট ভাই মজনু নেয়, অপরটি হামিদুর নেয়। ফাইনালি নওগাঁ জেলা পুলিশ পরিষ্কারভাবে বলতে চায় নওগাঁ জেলায় যে কোন অপরাধ দমন এবং প্রতিরোধে সেই সাথে দ্রুততম সময়ে আসামী গ্রেফতার করতে নওগাঁ জেলা পুলিশ সর্বাত্মক তৎপর রয়েছে।

সম্পাদকীয় :

উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য : ডাঃ মোঃ হাফিজুর রহমান
সম্পাদক : তোফাজল আহমেদ ফারুকী
ব্যাবস্থাপনা সম্পাধক : আব্দুল্লাহ রানা সোহেল
প্রকাশক : মোঃ সোহেল রানা
বার্তা সম্পাদক : মোঃ আব্দুল কাদের জিলানী
প্রধান প্রতিবেদক : হাসিবুর রহমান হাসিব 

যোগাযোগের ঠিকানা :

লাবিনা এপার্টমেন্টে # বাড়ি এ-৩, রোড # ০৮, সেক্টর #০৩,উত্তরা
উত্তরা মডেল টাউন -ঢাকা -১২৩০, বাংলাদেশ

মোবাইল :  ০১৭১৭-৬৭৬৬৬৪

ই-মেইল :  dailyvoicenews247@gmail.com