জাহিদুল আলম
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি) তেজগাঁও কেন্দ্রীয় মেরামত কারখানায় যন্ত্রাংশ ক্রয় ও ব্যবসা উন্নয়ন খাতের ব্যয় নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বিআরটিসির ডিজিএম (ভারপ্রাপ্ত—নির্মাণ) মো. মনিরুজ্জামানের দায়িত্ব পালনকালীন বিভিন্ন কার্যক্রম তদন্তের দাবি জানিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান বরাবর আবেদন করেছেন রফিকুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি।
আবেদনকারীর অভিযোগ, ২০০৯ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত তেজগাঁওয়ের কেন্দ্রীয় মেরামত কারখানায় দায়িত্ব পালনকালে যন্ত্রাংশ ক্রয় ও ব্যবসা উন্নয়ন খাতে আর্থিক অনিয়ম হয়ে থাকতে পারে। তাঁর দাবি, এ সময়ে কয়েক কোটি টাকার সম্ভাব্য অনিয়মের বিষয়টি খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তবে অভিযোগগুলোর সত্যতা এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
যন্ত্রাংশ কেনাকাটায় কমিশন নেওয়ার অভিযোগ
আবেদনে উল্লেখ করা হয়, মো. মনিরুজ্জামান ১৯৯৯ সালে বিআরটিসিতে ইঞ্জিনিয়ার পদে যোগ দেন। পরবর্তী সময়ে সিনিয়র ইঞ্জিনিয়ার ও ম্যানেজার (কারিগরি) পদে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৯ সালের ১ জুলাই থেকে ২০১৩ সালের ১৪ মার্চ পর্যন্ত তিনি তেজগাঁও কেন্দ্রীয় মেরামত কারখানায় ডিজিএম হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
আবেদনকারীর ভাষ্য অনুযায়ী, ওই কারখানায় মাসে প্রায় ৭০ থেকে ৮০ লাখ টাকা আয় হতো। এর উল্লেখযোগ্য অংশ যন্ত্রাংশ ক্রয়ে ব্যয় দেখানো হতো। অভিযোগে দাবি করা হয়েছে, পছন্দের সরবরাহকারীদের মাধ্যমে যন্ত্রাংশ কেনার ক্ষেত্রে প্রায় ৩০ শতাংশ কমিশন নেওয়া হতো। এ হিসাবের ভিত্তিতে আবেদনকারী কয়েক কোটি টাকার সম্ভাব্য আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন।
এ ছাড়া ব্যবসা উন্নয়ন খাতের ব্যয় নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। অভিযোগে বলা হয়েছে, এ খাতে মাসিক ব্যয়ের একটি অংশ কমিশন হিসেবে ভাগাভাগি করা হতো। সব মিলিয়ে তেজগাঁও কারখানায় দায়িত্ব পালনকালে প্রায় ৭ কোটি ৭০ লাখ থেকে ৮ কোটি ৭০ লাখ টাকার অনিয়ম হয়ে থাকতে পারে বলে আবেদনকারী দাবি করেছেন।
নথিপত্র যাচাইয়ের দাবি
অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট সময়ের দরপত্র, কার্যাদেশ, যন্ত্রাংশ ক্রয়ের বিল-ভাউচার, সরবরাহকারীদের তথ্য, নিরীক্ষা প্রতিবেদন এবং আর্থিক লেনদেন যাচাই করা প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অনুসন্ধানের দাবি উঠেছে।
বিশেষজ্ঞদের সাধারণ পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, সরকারি প্রতিষ্ঠানের ক্রয়প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র, যথাযথ নথিপত্র সংরক্ষণ এবং স্বাধীন নিরীক্ষা গুরুত্বপূর্ণ। অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে এসব নথি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
তবে আবেদনকারীর উত্থাপিত আর্থিক হিসাব এখনো তদন্তে প্রমাণিত নয়। অভিযোগের বিষয়ে মো. মনিরুজ্জামানের বক্তব্য এবং বিআরটিসি কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা প্রয়োজন। দুদকে আবেদনটি গ্রহণ করা হয়েছে কি না এবং এ বিষয়ে কোনো অনুসন্ধান শুরু হয়েছে কি না, সেটিও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নিশ্চিত হওয়া জরুরি।
অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের যথার্থতা নির্ধারণ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য প্রকাশ করা হলে বিষয়টি সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা পাওয়া যাবে।